প্রতিজবাব

68

এক নবদম্পতি বিয়ে করে নতুন বাসায় উঠলো।

অফিসের টানা খাটুনির শেষে একদিন স্বামী বাসায় ফিরলো। স্ত্রী আঁচল দিয়ে তার কপালের ঘাম মুছে দিতে দিতে বললো, “শুনছ, গোসলখানার শাওয়ারের পাইপটা লিক হয়ে গেছে। তুমি কি সেটা সারিয়ে দিতে পারবে?”

এমন প্রস্তাবণা শুনে চটাশ করে রেগে গেলো স্বামী। “কি মনে হয় তোমার আমাকে? পাইপমেস্তরি আজিজ?” বেশ অবজ্ঞা নিয়ে বললো সে। “শোনো, এমনিতেই খাটাখাটনি করে এসছি। আর আমার পক্ষে কখনই কমোডের উপর দাঁড়িয়ে, গুয়ের গন্ধ শুঁকতে শুঁকতে, ওসব পাইপ-প্রণালী মেরামত করা সম্ভব না।”
শুনে স্ত্রীর মুখটা পাংশুটে হয়ে গেলো।

কিছুদিন বাদে আবার অফিস সেরে স্বামী এল বাসায়। মাথার উপর ফ্যান ঘুরিয়ে নিচে জাঁকিয়ে বসলো। স্ত্রী ঠাণ্ডা পানির বোতল তার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বললো, “বুঝলে, আমাদের গাড়িটা স্টার্ট নিচ্ছেনা। আমার মনে হয় ব্যাটারি ক্ষয়ে গেছে।

তুমি কি সেটা বদলে দিতে পারবে। আমি একটু মালপত্র নিয়ে সামনের ব্লকে যাব।”
স্বামী এমনভাবে তাকালো যেন সে সামনে একটা চিড়িয়া দেখছে। “তোমার কি মনে হয় আমাকে? হারুণ মেকানিক?” এবারও তার স্বরে তাচ্ছিল্য। “মোড়ের গ্যারেজটা থেকে হারুণ মেকানিককে ডাকিয়ে আনলেই তো পারো। আমার এসব ভুসা-কালি গায়ে মাখার কোন ইচ্ছা নেই।”

আরো কিছু সপ্তা পর, সারাদিন ঝরো ঝরো বৃষ্টি হচ্ছিল। স্ত্রী দেখলো ছাদের একটা ফুটো গলে ঘরের মধ্যে পানি পড়ছে। স্বামী অফিস থেকে বাসায় আসতেই, স্ত্রী বলে বসলো, “দেখেছো, ছাদ ফুটো হয়ে কেমন অঝোরে পানি পড়ছে। তুমি কি এই ফুটো বন্ধ কোনভাবে এই ফুটো বন্ধ করে দিতে পারবে?”

স্বামী আবারো স্ত্রীর দিকে রক্তচক্ষে তাকালো, “তোমার কি মনে হয় আমাকে? আফজাল মেস্তরি?” বলেই হাতের ব্যাগটা সোফায় ছুঁড়ে দিল সে। “এইসব করাতে হলে বাজারের গলি থেকে আফজাল মেস্তরিকে খবর দিয়ে এনো। বালু-মশলা ঠেলাঠেলি করা আমার কম্ম না।”

অফিসের কাজে তিনদিনের জন্য ঢাকার বাইরে গিয়ে ফিরে এসে স্বামী দেখলো সবকিছু লাইনে এসে গেছে। গোসলখানার পাইপে আগের সে ফুটো নেই, গাড়িও ছুটছে হাওয়ার বেগে, ছাদের ফুটোটাও বেমালুম গায়েব। সে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলো, “বাহ গিন্নী, তোমাকে এই সবকিছু সারিয়ে নিলে কিভাবে। তোমাকে তো আমি টাকা দিয়ে যাইনি।”

“কীভাবে আবার, পাশের বিল্ডিংয়ের মদন মুন্সী সাহেব এসে সব ঠিক করে দিয়ে গেলেন। দোকানে একসাথে কেনাকাটা করতে গিয়ে ভদ্রলোকের সাথে পরিচয়। দারুণ বিনয়ী, সুদর্শন আর সুভাষী।”, আবেগঘন সুর স্ত্রীর কন্ঠে।

“তাই নাকি!!” উপহাসের সুরে বললো স্বামী। “তো উনি নিশ্চয়ই বড় একটা বিল ধরিয়ে দিয়ে গেছেন।”
“নাহ, তিনি কোন টাকা পয়সাই চাননি, শুধু তার দুটো আবদারের যেকোন একটি রাখতে বলেছিলেন।”
“কী সে দুটো”, কৌতুহলদীপ্ত চোখে স্বামীর জিজ্ঞেস।

“তিনি চেয়েছেন হয় আমি তাকে একবেলা মজা করে ভুনাখিচুড়ি রেঁধে খাওয়াই, নয়তো আমরা দুজন মিলে একটু চুমো-চাটি, আদর-সোহাগ… এই, একটু আধটু মজা করি আরকি।”, মুচকি হেসে বললো স্ত্রী।
“হুম” গম্ভীর হয়ে গেল স্বামীর কন্ঠস্বর। “তো তুমি খিচুড়িটা কেমন রাঁধলে?”

“রাঁধলাম!!” স্বামীর দিকে বক্র দৃষ্টি শানালো স্ত্রী। “তোমার কি মনে হয় আমাকে? সিদ্দীকা কবির?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here