সন্ত পিটার আর স্বর্গীয় যান

83

তিন বন্ধু গাড়ি চড়ে বাড়ি ফিরছিল। পথে এক বিশাল ট্রাক এসে তাদের গাড়িকে চাপা দিয়ে গেল, ফলে তিনজনেরই একসাথে জীবনাবসান ঘটল। তো তারা স্বর্গের প্রবেশদ্বারে সন্ত পিটারের মুখোমুখি হল।

“হুম,” গোবিন্দ গোমেজকে দেখে একটা লম্বা নিঃশ্বাস ঝাড়লেন সন্ত পিটার। “ইহজীবনে কবার তুমি তোমার স্ত্রীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছ।”, বললেন তিনি। “আর শোনো, মিথ্যে বলোনা। তুমি জানো আমি সন্ত পিটার। মিথ্যে বললে গায়েবী শক্তি দিয়ে সবকিছু ধরে ফেলবো তারপর গুহ্যে শিক ঢুকিয়ে সোজা নরকে চালান করে দেব।”

গোবিন্দ বারকয় ঢোঁক গিলে বললো, “ইয়ে মানে, আমি নিতান্ত দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, আমি প্রতি মাসে দুবার করে, স্ত্রী ভিন্ন অন্য নারীর সাথে শুয়েছি।”

“ঠিকাছে”, অবজ্ঞার সাথে বললেন পিটার। “সত্য যেহেতু স্বীকার করেছ, যাও, তোমাকে স্বর্গের বাহন হিসেবে, ওই যে, ওইখানে যে পুরোনো ভাঙাচোরা টাটা গাড়িটা রাখা আছে, ওটা দেয়া হল। ওটা নিয়ে বিদেয় হও।”

গোবিন্দ তার টাটা গাড়িটা নিয়ে বিদেয় হলে সন্ত পিটার তাকালেন কাঞ্চন কোড়াইয়ার দিকে। “এবার তুমি বল দেখি, তুমি কতবার পরস্ত্রীগামী হয়েছ।”

কাঞ্চন বললো, “মহামান্য, সত্যি বলতে কি, আমি আমার বারো বছরের বিবাহিত জীবনে মাত্র পাঁচবার স্ত্রীভিন্ন অন্য নারীর সাথে শুয়েছি।”

পিটার জবাব দিলেন, “যাগগে, ওই যে ওইখানে একটা টয়োটা রাখা আছে, স্বর্গের বাহন হিসেবে ওটা তোমার জন্য দেয়া হল। নিয়ে স্বর্গে ঢুকে পড়।”

কাঞ্চন বিদায় হলে সন্ত পিটার ঘুরলেন কমল কস্টার দিকে। “বলো হে বৎস”, শুধালেন পিটার “কবার তুমি তোমার প্রিয়তমা স্ত্রীর সাথে তার অগোচরে অন্যায় করেছ?”

কমল বেশ খোশ মেজাজে জবাব দিল, “হে সন্ত, এক চুলও মিথ্যে বলবনা। আমার বারো বছরের বৈবাহিক জীবনে আমি একবারও স্ত্রী ভিন্ন অন্য নারীর সাথে শুইনি। স্ত্রী কষ্ট পাবে বলে রাত করে বাসায়ও ফিরিনি। এমনকি আমার স্ত্রী মারা গেছে দু বছর হল, এর পর আমি অন্য কাউকে বিয়েও করিনি এবং সে সময় কঠোর কৌমার্য্যব্রত পালন করেছি।”

“বাহ”, খুশি হয়ে গেলেন পিটার। “যাও বৎস, ওই যে দেখছো ফেরারি গাড়িটা, আজ থেকে ওইটারি তোমার স্বর্গীয় বাহন।”

কিছুক্ষণ পর স্বর্গের এক তেমাথায় দেখা হল সেই তিন বন্ধুর। গোবিন্দ তার জরাজীর্ণ টাটা গাড়িটা নিয়ে খুব একটা নাখোশ নয়, আর কাঞ্চনের ভালই লাগছে তার টয়োটা চালাতে। কিন্তু দুজন দেখলো, তাদের বন্ধু, সৎপুরুষ কমল তার সেই বহুমূল্য ফেরারিতে বসে স্টিয়ারিং ধরে ভ্যাবলার মত কাঁদছে।

কাছে গিয়ে কাঞ্চন জিজ্ঞেস করলো, “কীরে, এত সুন্দর গাড়ি পেয়েছিস, তাতেও এমন কাঁদছিস কেন?”
কমল কাঁদতে কাঁদতেই জবাব দিল, “কিছুক্ষণ আগে দেখেছি আমার স্ত্রী একটা লক্করঝক্কর মার্কা হিরো সাইকেল চালাচ্ছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here